সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০২৩
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : দলীয় নেতাকর্মীর উপর হামলা, ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে রোববার(২৯অক্টোবর) হরতালের ডাক দেয় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
হরতাল চলাকালে সকাল থেকে সিলেট নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় পিকেটারদের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় পিকেটারদের ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন সিলেট মেট্রোপিলিটন পুলিশের ৫ সদস্য। এসব ঘটনায় সিলেট বিএনপি-জামায়াতের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নাশকতা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪ থানায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইভাবে সিলেট জেলা পুলিশের চারটি থানায় পুলিশ বাদি হয়ে ৪টি মামলা দায়ের করে।
বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ ও সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) শেখ মো.সেলিম।
জানা যায়, পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা কোতোয়ালি থানায় আটকদেরসহ হামলাকারী, মদদদাতাদের নামোল্লেখ করে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।অপরটি এক ছাত্রলীগ নেতার মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় ওই ছাত্রলীগ নেতা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া জালালাবাদ থানায় পুলিশ অ্যাসল্টের ঘটনায়, এয়ারপোর্ট থানায় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এবং দক্ষিণ সুরমা থানায় গাছ সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের ঘটনায় জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এইসব মামলায় এজাহার নামীয় ৬৯ জন ও অজ্ঞাতনামা ৪৭০জনসহ আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতা।
আর সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর থানায় পৃথকভাবে পুলিশ বাদি হয়ে ৪টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলা এখন পর্যন্ত ৫জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালিগঞ্জ বাজারস্থ যাত্রী ছাউনির সামনে জকিগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের উপর বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে অবস্থান করে।
এসময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বোমা নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগে উঠে। এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ২২ নেতাকর্মীর নাম এজাহারভূক্ত করে ১০০ থেকে ১৫০ নেতাকর্মীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, হরতাল চলাকালে জৈন্তাপুরের সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর বাস-স্টেশন এলাকায় পিকেটিং করার সময়ে গাড়িতে হামলা চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির ৪ কর্মী সমথর্ককে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় জৈন্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করা।এছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে আরও দুটি মামলা দায়ের করে গোলাপগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট থানায়।
অপরদিকে, রোববার হরতালকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১৮০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, একটি টিয়ারগ্যাস ও ১৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। হামলাকারীদের নিভৃত করতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন-এএসআই ভুলন দেব, এএসআই ইলিয়াস রহমান, কনস্টেবল দিদার হোসেন, মুদ্দাচ্ছির ও শফিকুল ইসলাম শাকিব।
জেলা ও মহানগর থানা পুলিশের পৃথক আটকৃতরা হলেন- মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কোতোয়ালি থানাধীন নগরীর মধুশহীদ ১৩১/১১৬ সং বাসার মীর্জা জালালি মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবদল নেতা মোহাম্মদ আব্বাস, সুনামগঞ্জ জেলার রংগার চর আমবাড়ি এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে ইমরান আহমদ (২২), কোতোয়ালি থানাধীন কাজলশাহস্থ নবাব রোডের ৮৬ নম্বর বাসার সুলতান মাহমুদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২১), দোয়ারাবাজার থানার কান্ডারগাঁও ইউনিয়নের নুরুউদ্দিনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৭), দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার সেরু মিয়ার ছেলে নাদিম আহমদ (২০), একই এলাকার মৃত বাবুল হোসেনের ছেলে ওয়াহেদুল ইসলাম শহিদ (২৭),জৈন্তাপুর উপজেলার লামা শ্যামপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শোয়েব আহমদ (২৮), হেমু দত্তপাড়া গ্রামের জমছিদ মিয়ার ছেলে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক বদরুল ইসলাম (৩৫), বাগেরখাল দলইপাড়া গ্রামের হাজাী আব্দুল মজিদের ছেলে আরিয়ান আহমদ এনাম, উপর শ্যামপুর গ্রামের হাফিজ উল্লার ছেলে নাছির আহমদ ও জকিগঞ্জ থানার মানিকপুর ইউপির মোহাম্মদপুর গ্রামের জালাল আহমদ ককা মিয়ার ছেলে বিএনপি নেতা সাব্বির আহমদকে (৩৫) ।তাকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাকি অন্য আসামিদের গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার (৩০ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, আটক ৮জনকে আজ গ্রেফতার দেখিয়ে আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই পর্যন্ত চারটি থানায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) শেখ মো.সেলিম, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন চারটি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd