সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘শাহিনুর পাশা চৌধুরী। বিতর্কের সহোদর তিনি। সমালোচনার জালে আটকা পড়েন বারবার। নাটকীয়তার জন্ম দেন। কর্ম থেকে ঢোল পেটা বেশি তার নামে। নির্বাচন এলে নিজেকে আলোচনায় আনেন পাশা। সেবা নয়, নিজস্ব স্বার্থলাভে ইসলামি দল জমিয়তের আশ্রয়ে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করেন তিনি’ — এমন কতশত অভিযোগ তার নামজুড়ে। নিজ এলকায় তিনি সিজনাল পলিটিশিয়ান নামে পরিচিতি। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন খুব নিকটে। এরই মধ্যে আরও একবার আলোচনায় আসলেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এ এমপি। সব সমালোচনা পেছনে ঠেলে আশায় বুক বাঁধছেন নতুন করে। দলের বাহিরে গিয়েও এমপি হবার অভিপ্রায় তার। আলাপ করেছেন দেশনেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। তাই গুঞ্জন উঠছে আ.লীগে যোগদানেরও।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান ইসলামপন্থী নয়টি দলের ১৪ নেতা। তাদের মধ্যে শাহীনুর পাশা চৌধুরীও ছিলেন। এর একদিন পর শুক্রবার পাশার দল জমিয়ত তার সদস্যপদ স্থগিতের ঘোষণা দেয়। দলটি নীতিগতভাবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
এদিকে পাশা বলছেন,‘আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কারণে দল যদি আমাকে বহিষ্কার করে তাহলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করব।’
সর্বশেষ গতকাল রাতে তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘অশ্রুশিক্ত নয়নে প্রাণাধিক প্রিয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে পদত্যাগ করলাম।সাবেক মন্ত্রী জমিয়তের গর্বের প্রতীক মুফতী ওয়াক্কাস রহ. এর মতো ধৈর্য আমার নেই। আমি ফকিরের ও ছেলে নই– ইনশাআল্লাহ নির্বাচনের পর মাঠে দেখা হবে।’
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শাহিনুর পাশাকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। অনেকে তাকে স্বার্থান্বেষী দালাল বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেষের শীর্ষ ইসলামি দলসমূহের নেতাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন,’শাহিনুর পাশা বিতর্কতি লোক। ধর্ম ও আবেগকে তিনি বিবেকের প্রশ্নে বিক্রি করেন সবসময়। তিনি জমিয়তকে নিজস্বার্থে ব্যবহার করেন। ধর্মীয় পরিচয়ে সহজ-সরল মানুষদের কাছে ভিড়তে চান’।
এমন দ্বিচারিতার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন খোদ শাহীনুর পাশা চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকসহ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ জনতা।
সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শাহীনুর পাশার কর্মকাণ্ডে আমরা হতাশ। তাকে দেখে দলের কর্মীরা উৎসাহ পেত। কিন্তু তিনি যা করেছেন তা এককথায় দুঃখজনক। তিনি কারো সাথে পরামর্শ না করে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সকলেই হতাশ। দল তার বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা যথাযথ মনে করি।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই বলেন, ‘পাশা ভাই তার নির্বাচনী এলাকার কোনো নেতাকর্মীর সাথে পরামর্শ না করে এককভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের লজ্জায় ফেলে দিয়েছেন। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে আমরা দলের সাথেই থাকব।’
নির্বাচনী এলাকা শান্তিগঞ্জ-জগন্নাতপুরের সাধারণ জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শাহিনুর পাশা ইসলামিমে রাজনীতিতে যুক্ত। মানুষকে তিনি হেদায়াতের দাওয়াত দেন,অথচ তিনি নিজেই বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ান। ধর্মকে তিনি নিজস্ব স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করেন। তারমত নেতা আমরা চাই না।শুনেছি তিনি জমিয়তের পদ হারিয়েছেন,এটা খুশির খবর। জমিয়তকে ধন্যবাদ।’
উল্লেখ্য,২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবদুস সামাদ আজাদের সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন পাশা। ২০০৫ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর (আবদুস সামাদ আজাদ) মৃত্যুতে পাশার মুখে যেন হাসির খই ফুটে। ‘তার মৃত্যুর পরদিনই পাশা বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে গিয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন’— এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। পরে ওই আসনে উপনির্বাচনে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd