মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :“সবুরে মেওয়া ফলে”। বাংলাদেশের প্রাচীন এই প্রবাদ বাক্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর বেলায় পূর্ণরুপে ফলতে যাচ্ছে।
গেল দুবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবার পরও জোটের স্বার্থে শরীক দলের জন্য নিজ মনোনয়ন দূবারই প্রত্যাহার করে অসীম ত্যাগ স্বীকার করায় এবার তিনি তার উত্তম পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন।
আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলে তিনি হবেন বিশ্বনাথের স্থানীয় রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি যিনি দুবার সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। শুধু তাই নয়, তিনি হবেন আওয়ামীলীগের সরকারে বিশ্বনাথের ১ম প্রতিমন্ত্রী।
আর বিশ্বনাথের ইতিহাসে ২য় প্রতিমন্ত্রী। কারণ ১৯৭৯ সনে বিশ্বনাথের ১ম ব্যক্তি হিসেবে দেওয়ান তৈমুর রাজা চৌধুরী তখনকার বি.এন.পি সরকারের রেল সড়ক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালের পর থেকে আজ দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বিশ্বনাথবাসী নিজের ঘরের মানুষ হিসেবে কাউকে মন্ত্রী হিসেবে পেল।
দেওয়ান তৈমুর রাজা চৌধুরীর পর বিশ্বনাথের অনেক কৃতিসন্তান এই আসনে এম.পি নির্বাচিত হন। কিন্ত বিশ্বনাথের কারো ভাগ্যে মন্ত্রীর মত পদবী জোটেনি। আর এ জন্য বিশ্বনাথবাসীকে দীর্ঘ ৪৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট-২ আসনে ২য় বারের মত নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী শপথ নিলে বিশ্বনাথবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি স্বপ্ন পূরণ হবে।
গেল বুধবার বিকেল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবিত নাম প্রকাশিত হলে বিশ্বনাথের সর্বত্র আনন্দের বন্যা বইছে।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর সাথে আলাপকালে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এই মনোনয়ন দিয়েছেন তার জন্য আমি সিলেটবাসী ও প্রবাসীদের পক্ষ থেকে তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সে সাথে আমি সিলেটবাসী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই আমি যেন প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিদান শতভাগ পূরণ করতে পারি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে সেই তওফিক দান করেন”।