সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৮
সিলেট অফিস :: সিলেটে সরকারি কুষ্ঠ হাসপাতালের চিত্র ছিল ভয়াবহ। এখানে রোগী ভর্তি করানোর পর পরিবারের কেউ ভয়ে খোঁজও নিতে আসতেন না। কেউ কেউ এখানেই চিকিৎসা নিয়ে মারা যেতেন। তাকে হাসপাতালের পাশেই কবর দিতে হতো। এখন সেই ভয় কাটছে। পরিবারে থেকেও অনেকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরম্নতর ক্ষতের রোগীরা এখানে মারা গেলে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে লাশও নিতে আসেন পরিবারের লোকজন। কুষ্ঠ রোগের ভয় কমে আসা ও চিকিৎসার উন্নতির জন্য দৃশ্য পাল্টেছে বলে মনে করছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
সরেজমিনে জানা গেল, সিলেটের শেখঘাটের কলাপাড়ায় ১৮৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতালটি। তখন কুঁড়েঘরের হাসপাতাল ছিল। পরে ১৯৬৩ সালে পাকা ভবনে ৮০ শয্যায় উন্নীত হয় হাসপাতালটি। ভেতরে রোগীভর্তি ও বাইরে রোগী দেখা শুরম্ন হয়। বর্তমানে ৮০ শয্যার এই হাসপাতালটি ৪৮ জন রোগী থাকার উপযোগী। ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী সব সময় ভর্তি থাকেন। হাসপাতালে দুজন ডাক্তার ও একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট রয়েছেন। এখানে রোগীরা ৬ মাস থেকে ১২ মাসের মেয়াদে চিকিৎসা নেন। এমডিটি এমবি পদ্ধতিতে ১২ মাস এবং এমডিটিপিবি মেয়াদে ৬ মাস চিকিৎসা দেয়া হয়। বছরে প্রায় ৩০০ রোগী গড়ে এ হাসপাতালে আসেন। তবে গুরম্নতর লেপ্রোসি রোগীর সংখ্যা নেই বললেই চলে। বর্তমানে হাসপাতালে মাত্র দুজন গুরম্নতর রোগী আছেন। যাদের শরীরে পছন ধরেছে। সেখান থেকে পোকা বের করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের ক্ষত স্থানের বোধশক্তি নেই। এখানে পুরম্নষ রোগীর জন্য ৩৮ শয্যা ও নারী রোগীর জন্য ১০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ৫ জন নারী রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালের আউটডোরে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া রোগী দেখার সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত্ম। এসএসএস পদ্ধতিতে রোগী দেখা হয়। গেল বছরে ৫৯ জন রোগী আউট ডোরে ডাক্তার দেখিয়েছেন। ২০১৬ সালে দেখিয়েছিলেন ৫৪ জন। তবে সবার কুষ্ঠ ধরা পড়ে না। আবার বেশির ভাগই আসেন ফলোআপ ওষুধ নিতে পুরনো কুষ্ঠ রোগী। এখান থেকে তারা ফ্রি ওষুধ নিয়ে যান। বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি জুতাও কুষ্ঠ রোগীদের ফ্রি দেয়া হয়। হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষরা এগিয়ে এসেছেন। রোগীদের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ ও পুকুর সংস্কার করে দিচ্ছেন। বিনোদনের জন্য টিভিও আছে রোগীদের। শুধু পুরনো ভবনটি জরাজীর্ণ। শয্যা কমেছে। শয্যা আরো বাড়ানো দরকার বলে জানালেন সংশিস্নষ্টরা।
হাসপাতালে প্রায় ১৭ বছর ধরে কর্মরত জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স বিদু্যৎ কুমার দেব জানান, অনেক রোগী ক্ষত বাড়ায় বোধ হারানোর পর আসেন। ক্ষতের পোকার আক্রমণে তারা রাতে ঘুমুতে পারেন না। ক্ষতের পোকা বের করার পর তারা শান্ত্মিতে ঘুমাতে পারেন। এখানে ভর্তি হওয়ার পর বেশির ভাগ রোগীই সুস্থ হয়ে বাড়ি যান।
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী এক বছরের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। একইভাবে ১৩ মাসের চিকিৎসা নিয়ে সুনামগঞ্জের গৌরিপুরের আবদুল হামিদ সুস্থ হয়েছেন। তারা জানালেন, এখানে খুব যত্নে ও উন্নত পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়। আউটডোরে এসে ওষুধ ফ্রি নিয়ে তারা বাড়িতে পরিবারের কাছে চলে যেতেন। এখন সুস্থ রয়েছেন। আর তাদের পরিবারেও রোগ নিয়ে ভয় ছিল না, তবে সচেতন ছিলেন।
সিলেট সরকারি কুষ্ঠ হাসপাতালের চিকিৎসক রম্নবিনা ফারজানা বলেন, ‘রোগের প্রতি মানুষের ভয়টা কমেছে, এখন রোগী থেকে তথ্য পেয়ে অন্য রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসেন। এ রোগ সহজে ছোঁয়াছে নয়। তবে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে গুরম্নতর রোগীর মাধ্যমে ছড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের আলাদা গস্নাস-পেস্নট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। এখানে মহিলা রোগী খুব একটা আসেন না। মহিলারা তাদের রোগটা লুকিয়ে রাখেন। যখন শেষ পর্যায়ে তখন দেখাতে নিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে রোগীকে সুস্থ করা কঠিন হয়ে পড়ে।সূত্র – যায়যায় দিন
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd