সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক :: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় এর উদ্যোগে আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রম এর আওতায় সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে শেরপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা বেগম নাছরিন বেগম ফাতেমা। শেরপুর জেলা প্রশাসক জনাব ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তাকে এ র্সংবর্ধনা প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ এর শেরপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জনস্বার্থে আরো কাজ করার লক্ষ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর ৩ আসনে মনোনয়োন প্রত্যাশী।
আজ ব্যাক্তিগত জীবন ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত এ নারীর জীবনের প্রথম অধ্যায়টি এত সুন্দর ছিল না। জীবনে চলার পথে পথে ছিল নানা কষ্ট ও প্রতিবন্ধকতা। জীবনের সকল প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে শ্রম ও সাহসিকতার উপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে নিজেকে এই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শুধু তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠিত হননি পেশা জীবনে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন অবহেলিত নারী, শিশু ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে।
যখন মানুষের বয়স ধেলাধুলা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তখন এই নারীকে বল্যবিবাহের কারনে বেছে নিতে হয়েছে সংসার জীবনের মত কঠিন পথচলাকে। এমতবস্থায় তিনি দমে যাননি বরং তার স্বামীর অদম্য সহযোগিতায় তিনি ১৯৯০ সালে এসএসসি, ১৯৯৫ সালে এইচএসসি, ১৯৯৭ সালে বিএ এবং ২০১৫ সালে এম এ পাশ করেন। বিয়ের শুরুতে তাকে সামলাতে হয় অভাব অনটনের সংসার। স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই ছাত্রাবস্থায় থাকার দরুন সংসারে কোন উপার্জন ছিল না। এমতবস্থায় সংসারে নেমে আসে অশান্তি ও হতাশা।
অদম্য সাহসী এ নারী স্বামীর যোগ্য সহর্ধমীনী হিসেবে স্বামী স্ত্রী উভয়ে মিলে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে ছোট পরিসরে একটি স্কুল কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে ছোট সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন শেরপুর জেলার সবচেয়ে উন্নত ও সফল আইডিয়াল পিপ্রারেটরি এন্ড হাই স্কুল। যার আরও দুটি শাখা জেলার ঝিনাইগাতী ও শ্রীবর্দী থানায় অবস্থানশীল। তার স্বামী আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান সূজা অধ্যক্ষ ও তিনি নিজে উপাধ্যক্ষ ছাড়াও এখানে ১৪০জন শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রতিনিয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রদান করে চলেছেন। শুধু তাই নয় তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০১৭ সালে জেলার সর্বশ্রেষ্ঠ স্কুল হিসেবে এটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বিপ্লবী এই নারী ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে আওয়ামীলীগ এর সৎ, নির্লোভ ও একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এখন তিনি শেরপুর জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ১৯৯১সালে তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন।১৯৯২ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হন। ১৯৯৬ সালে প্রয়াত সভানেত্রী আইভি রহমান এর স্বাক্ষরিত মহিলা আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
শিক্ষকতা ও রাজনীতির অন্তরালে তিনি একজন সমাজ সেবিকা। জনস্বার্থে তিনি নিঃস্বার্থ ও নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি এতিম মেয়েদের বিবাহ বন্ধন কর্মসূচী, শেরপুরের সভাপতি, শেরপুর রোটারী ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, শেরপুর বঙ্গবন্ধু দুঃস্থ কল্যাণ ও পুর্নবাসন সংস্থা এর উপদেষ্টা, ফিরোজা ইজ্জত মেমোরিয়াল শেরপুরের প্রতিষ্ঠাতা, শেরপুর মহিলা পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদিকা ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শেরপুরের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া তিনি শেরপুর রেড ক্রিসেন্ট, রোটারী চক্ষু হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ ডায়বেটিক সমিতি, সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি, প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি, শিশু পরিবার, জাতীয় মহিলা সংস্থা, টি এল সি সি, ভিজিডি প্রকল্প, শিশু একাডেমী, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, ওমেন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি ও পুলিশিং কমিটি এর সদস্য।
তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরন করে মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান এর লক্ষ্যে নিজ অর্থায়নে দুস্থ মহিলাদেরকে সেলাই মেশিন প্রশিক্ষন ও সেলাই মেশিন প্রদান করেন। নির্যাতিত বহু মহিলাকে আইনী সহায়তা প্রাপ্তিতে সাহায্য করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা করে যাচ্ছেন। নিজ অর্থায়নে মেডিক্যাল ক্যাম্প করে চোখের ছানি অপারেশন এবং চোখের লেন্স লাগানোর ব্যবস্থা করে চলেছেন। শেরপুর সদর হাসপাতালে গরীব ও দুঃস্থ রোগীদের চিকিৎস্বার্থে রোগী কল্যাণ তহবিলে প্রতি বছর ২৫০০০ টাকা অনুদান দিয়ে থাকেন। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় প্রতিনিয়ত অনুদান প্রদান, মাননীয় এমপি মহোদয়ের সহযোগিতায় এতিম মেয়েদের বিবাহ, প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা ও হুইল চেয়ার বিতরণ এবং শীতার্থদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করে চলেছেন।
এছাড়াও শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে শেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের সময়ের শেরপুর প্রতিনিধি সাবিহা জামান (শাপলা), অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে মোছাঃ ইসমত আরা বেগম, সফল জননী নারী হিসেবে মোছাঃ আনোয়ারা বেগম ও নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী হিসেবে মোছাঃ সাথী আক্তার এ সম্মাননায় ভুষিত হয়েছেন।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd