সিলেট ৭ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’র গডফাদার মুকিতকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত সেবা বঞ্চিত ওয়ার্ডের মানুষজন। বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায়ে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর থানায় একাধীক অভিযোগ হওয়ায় মুকিত আত্মগোপনে। যার ফলে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৪ ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনসাধারণ বর্তমানে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিদা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
জানা গেছে, ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতের নির্যাতন নিপীড়নে অতিষ্ঠ সিলেটের জকিগঞ্জের মানুষজন। একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে মুকিত বাহিনীর প্রধান আব্দুল মুকিত। আব্দুল মুকিত উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের মাসুক উদ্দিনের পুত্র ও বর্তমানে জকিগঞ্জ সদর ইউপি সদস্য। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের অন্তঃ নেই। সম্প্রতি একটি সন্ত্রাসী মামলার পলাতক আসামী হলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে ধরছে না পুলিশ। ফলে সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলার বাদী ও সাক্ষীসহ এলাকাবাসীর উপর জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, গত ৩১ মার্চ মুকিত ও তার বাহিনী নিজ গ্রামের গফুর ভেরাইটিজ স্টোরে সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট চালায়। এসময় দোকানের দেড়লাখ টাকা লুটপাটের পাশাপাশি মহিলাসহ চারজনকে গুরুতর জখম করে। মুকিত ও তার বাহিনীর নির্মম হামলায় দোকান মালিক আব্দুল গফুর ও তার ছেলে দিদারুল ইসলাম এখনো ওসমানী হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনায় ‘সন্ত্রাসী’ আব্দুল মুকিতসহ কয়েকজন আসামী করে জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা {নং-০১(৪)২২} হয়। এ মামলায় পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করলেও ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’র প্রধান আব্দুল মুকিতকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গ্রেফতার না হওয়ায় মুকিত আরো বেপরোয়া হয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নানাভাবে হয়রানী ও নির্যাতন শুরু করছে।
গত ৪ এপ্রিল মুকিত ও তার বাহিনী উক্ত মামলার সাক্ষী জাবের আহমদকে রাস্তায় পেয়ে মাধর করতে উদ্যত হয় এবং মামলা তুলে না নিলে ও সাক্ষী দিলে তাকে খুন এবং গুম করে ফেলার প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ৪ এপ্রিল আব্দুল মুকিত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং-১৩৪) করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ স্থানীয় ছবড়িয়া গ্রামের সুমনা বেগম নামের এক মহিলা ছেলের জন্ম নিবন্ধন শুদ্ধ করাতে ইনিয়ন অফিসে যান। এসময় আব্দুল মুকিত ওই মহিলাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে ইউনিয়ন অফিস থেকে তাড়িয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়, ঘটনার জের ধরে আব্দুল মুকিত ৪ এপ্রিল রাত ২টায় দলবল নিয়ে সুমনার ঘরে জোর পূর্বক প্রবেশ করে এবং মারধর ও ওই মহিলার শ্রীলতা হানী ঘটায়। এ ঘটনায় সুমনা বেগম বাদী হয়ে আব্দুল মুকিত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা থানা পুলিশের তদন্তে রয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন-আব্দুল মুকিত তার ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। ফলে গত ইউপি নির্বাচনে সে মেম্বার পদটি ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। মেম্বার হওয়ার পর মুকিত আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই এলাকাবাসী তার ভয়ে তটস্থ থাকেন। আব্দুল মুকিতের বিরুদ্ধে মামলাসহ নানা অপকর্মের বহু অভিযোগ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ এলাবাসীর।
জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলার মামলায় ২আসামীকে গ্রেফতার করেছে। মামলার প্রধান আসামী আব্দুল মুকিতসহ অন্যরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের তল্লাশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd