সিলেট ৭ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ‘রাজাকার’ মধু মিয়া তালুকদারের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে ওই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামি মধু মিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথমবারের মতো দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আসামির পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই দুই মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের আক্কেল আলী এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের আশরাফ উদ্দিন।’
রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিনের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। আর আসামি মধু মিয়ার বয়স এখন কম বলা হচ্ছে। অথচ ২০১৬ সালে (ইউপি) নির্বাচনের সময় তার জন্ম দেখানো হয়েছে ১৯৫২ সালে।’
এ ছাড়া অভিযোগ স্বীকার করেই আসামি পক্ষ সাক্ষীকে জেরা করেছে বলে জানান তিনি।
সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কেল আলী আদালতে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই মধু মিয়া তালুকদারকে চিনি। ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭১ সালের জুলাইয়ের শেষে যুদ্ধে অংশ নেই। এ সময় আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মধু মিয়া তালুকদারের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামেও যাতায়াত করতাম। তখন মধু বাহিনী নামে কোনো বাহিনী বা সে রাজাকার ছিল বলেও কারও কাছে শুনিনি। যুদ্ধের সময় তার বাবা সুলতান মিয়া তালুকদার আমাদের আনুমানিক ২০০ মুক্তিযোদ্ধাকে গরু জবাই করে খাওয়ান। ওই সময় মধু মিয়ার বয়স ছিল ৯/১০ বছর। সে ছিল তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।’
অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন আদালতে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় মধু বাহিনী নামে কোনো বাহিনী ছিল না বা সে রাজাকার ছিল না। সে ভালো লোক মর্মে আমিসহ ২৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা মধু মিয়া তালুকদারের অনুকূলে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি।’
এর আগে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি মধু মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই সময় মধু মিয়া বানিয়াচং থানার মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd