সিলেট ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা: গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সড়কের উনাই ব্রিজের নির্মাণকাজ গত প্রায় ২৩ মাসেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
যথাসময়ে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। যাতায়াতের উন্নয়নে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতায় সমালোচনায় ফেলছে সরকারের উন্নয়ন।
উপজেলার পিরিজপুর-সোনার হাট সড়কের উনাই ব্রীজের কাজের ধীরগতির কারণে উত্তর গোয়াইনঘাটবাসীর যোগাযোগ বর্ষা মৌসুমে উপজেলা সদরের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এলাকার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর-সোনারহাট সড়কের এলজিইডির আওতায় উনাই হাওরে ৬০ মি. দীর্ঘ ব্রিজের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ঠিকাদারের গাফিলতি আর কাজের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগের শিকার এলাকাবাসী। গেলো বর্ষাকালে উপজেলা প্রশাসন, পরিষদ, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির প্রচেষ্টায় একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ হলেও সামান্য বৃষ্টি আর পানিতেই যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
সিলেট-৪ আসেনর সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের নির্দেশনায় গত বন্যায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান,লেংগুড়া ইউপি চেয়ারম্যান, পশ্চিম জাফলং ও মধ্যে জাফলং ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আর্থিক সহায়তায় উপজেলা সদরের সাথে পশ্চিম গোয়াইনঘাটের যোগাযোগের জন্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে খেয়া পারাপার হয় চালু। ব্রিজটির ঠিকাদারের কাজের গাফিলতিতে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ এখনও চলছে।
গত দুই বছর যাবৎ ব্রিজের কচ্ছপ গতির কাজ নিয়ে ও এলাকাবাসীর ভোগান্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় হয়। যার দায়ভার ও জবাবদিহিতা এসে পড়ে উপজেলা প্রশাসনের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান ও স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,ব্রিজটি নির্মাণে সরকারের ৮ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এ পর্যন্ত ব্রিজের ৬০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,এ পর্যন্ত ব্রিজের ৫০ ভাগ কাজ হয়েছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম শ্রমিক দিয়ে কচ্ছপ গতিতে কাজ চলছে।
এলাকাবাসী জানান, ঠিকাদার এখনও কাজের কাজ কিছুই করতে পারেনি, ১দিন কাজ হলে আবার ৩দিন দিন বন্ধ থাকে।
জানা যায়, ব্রিজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল কামিল প্রোপাইটিজ। ঠিকাদারের কাজে ধীরগতি, উদাসীনতা, সুষ্ঠ তদারকির অভাবে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মানুষের উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও উদাসীনতায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগের কাছে সরকারের উন্নয়নকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। তারা জানতে চান তাদের এই দুর্ভোগের শেষ কবে হবে।
স্থানীয় আহারকান্দি, মাতুরতল ও মনরতল বাজারের ব্যাবসায়ীরা বলেন, ব্রিজের দুই পাশেই পাকা সড়ক। শুধু ব্রিজের কারণে যানবাহন ও মালামাল পরিবহন করতে পারছি না। এসব ভোগান্তির কারণে লোকজন এখন আর বাজারে আসতে চায় না। আমরা ব্যবসায়ীরা অনেক সমস্যার মধ্যে পড়েছি। আমরা চাই দ্রুত ব্রিজটির কাজ শেষ করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হলে ব্রিজের পাশে তৈরি করা মাটির রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয় এতে আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যেতে ভোগান্তি হচ্ছে। ব্রিজের কারণে তারা চাইলেও সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। অন্তত আমাদের সবার কথা বিবেচনা করা ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক।
কাজের ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল-কামিল প্রোপাইটিজ এর স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম নিজেকে একজন পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বলেন, বিগত ২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় কাজ করতে দেরী হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারিনি, বর্তমানে ৬৫ ভাগ কাজ হয়েছে। পুরো কাজ সম্পন্ন করতে আরো ৩/৪ মাস সময় লাগবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, মন্ত্রী ইমরান আহমদ মহোদয় ও আমাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তদারকির কোন অভাব নেই। এই ব্রিজ নিয়ে এলাকাবাসী পড়েছে গ্যাড়াকলে ও আমরা জনপ্রতিনিধিরা মাইনকার চিপায় পড়েছি। গত দুইদিন আগে আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়ে ব্রিজের বর্তমান কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। লোকবল অনেক কম, বালি থাকলে সিমেন্ট থাকে না, সিমেন্ট থাকলে রড থাকে না।এইভাবে কচ্ছপ গতিতে কাজ চলছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি উপরের বিভাগে বিষয়টি জানানোর জন্য। যাতে করে এই বছর বর্ষার আগে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ করা যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ব্রিজের ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে। আমি একাধিকবার কাজ বাতিলের জন্য লিখেছি। তবে বাস্তবতা হলো বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করলে আমরা আরো দেড় থেকে দুই বছর পিছিয়ে পড়বো এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাকুতি মিনতিতে উপর বিভাগ তাকে বাতিল না করে কাজটি পুনরায় করার জন্য সুযোগ ও সময় দিয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবছর ব্রিজের কাজ শেষ না হলেও বর্ষায় ব্রিজের উপর দিয়ে জনগণ চলাচল উপযোগী পর্যন্ত কাজ করা হবে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd